ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

হারিয়ে যাওয়া আমেনার ২২ বছর পর ঘরে ফেরার গল্প

বগুড়ার ধুনট উপজেলার হারিয়ে যাওয়া আমেনা খাতুন দীর্ঘ ২২ বছর পর ফিরে পেয়েছেন তার প্ররিবার। গত সোমবার রাতে নেপাল থেকে দেশে ফিরে জন্মভূমির মাটি স্পর্শ করেন তিনি। তাকে দেখতে উপজেলার ছোটচাপড়া গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। খুশি স্বজনসহ তিনি নিজেও।অবশেষে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। এরই মধ্যে বদলেছে অনেক কিছুই। শুধু বদলায়নি মায়ের প্রতি সন্তানদের নাড়ি ছেঁড়ার টান। যেখানে একসঙ্গে জড়িয়ে আছে দুঃখ-কষ্ট আর আনন্দ। তিন ছেলে ও এক মেয়ে তার। মা তার কিছুই আঁচ করতে পারছেন না। কথাও বলছেন অসংলগ্ন, বয়সটা যে বেড়ে এখন আশির ঘরে। লোপ পেয়েছে ২২ বছর আগের অনেক কিছুই। কীভাবে নেপালে পৌঁছেন সেই স্মৃতিও মনে করতে পারছেন না তিনি। তাই নেপাল থেকে দেশে স্বজনদের কাছে ফেরার গল্পটাই ছিল যে অনেকটা অলৌকিক। অনেক আগেই মারা গেছেন স্বামী আজগর আলী।


মানসিক ভারসাম্যহীন আমেনা ৫৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। স্বজনরা ধরেই নিয়েছিলেন মারা গেছেন তিনি। কিন্তু প্রায় তিন মাস আগে নেপালের সুনসারি এলাকায় তার সন্ধান মেলে। এরপর বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় তার পরিবারের খোঁজ মেলে। নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাস তাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারি খরচে গত সোমবার রাতে নেপাল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছেন তিনি।


আমেনার ছেলে আমজাদ হোসেন বলেন, আমার মা আগে থেকেই মাননিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ২২ বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন। তিন মাস আগে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, নেপালে মাকে পাওয়া গেছে। এরপর তাকে সরকারি খরচে দেশে ফেরানোর জন্য আবেদন করি। নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাস তাকে দেশে ফিরে এনে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। মাকে পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।


বাকি জীবনটা মা আমার কাছেই থাকবেন। আমেনার বোন জরিনা খাতুন বলেন, ছোট বেলা থেকেই পাগলের মতো আবোল তাবোল কথা বলতেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর বাড়িতে ফিরে আসায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি। তবে কীভাবে বাড়ি থেকে নেপালের সুনসারিতে পৌঁছান আমেনা খাতুন, তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না তিনি। তারপরও আমেনা খাতুনের অসংলগ্ন কথাবার্তায় যতটুকু জানা যায়, বাড়ি থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ভারতে পৌঁছান।


তারপরও দুর্গাপূজার মধ্যে ভারত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে নেপালের সুনসারি জেলার ইনারোয়া শহরে পৌঁছে বাসাবাড়ি ও হোটেলে কাজ করতেন। বার্ধক্যের কারণে তিনি কাজ করতে না পেরে রাস্তাঘাট ও ফুটপাতে থাকতেন। পরে ইনারোয়া পৌরসভার কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সুনসারি জেলা প্রশাসনের সেফ হাউসে রাখেন। দেশে ফিরে স্বজনদের পেয়ে তিনিও অনেক খুশি।

ads
ads
ads

Our Facebook Page